টানা আট সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অন্যদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে টানা আট সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ার পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। খবর রয়টার্স।

এদিকে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিনের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছার পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফার অংশ তুলে নেয়ায় বাজার সংশোধন হয়।

ওই দিন স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে। প্রতি আউন্সের দাম ২ হাজার ৯৩৯ ডলার ৬৩ সেন্টে নেমে আসে। তবে গত সপ্তাহে ধাতুটির দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রেকর্ড ২ হাজার ৯৫৪ ডলার ৬৯ সেন্টে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ধাতুটির দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে। আউন্সপ্রতি লেনদেন হয় ২ হাজার ৯৫৩ ডলার ২০ সেন্টে। দাম কিছুটা কমলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে।

আলেজিয়েন্স গোল্ডের প্রধান অপারেটিং অফিসার অ্যালেক্স এবকারিয়ান বলেন, ‘এটি স্বর্ণ বাজারের সাধারণ ঘটনা। যখন দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়, তখন বিনিয়োগকারীরা মুনাফার অংশ তুলে নেন। কিন্তু স্বর্ণের ভিত্তি এখনো শক্তিশালী এবং এর চাহিদা কমার কোনো লক্ষণ নেই।’

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধাতুটির দাম আগামী দিনগুলোয় আরো বাড়তে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারের গতিবিধি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম দুবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৯৫০ ডলারের ওপরে ওঠে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার মূল কারণ হলো পশ্চিমা বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এটিএফ (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড) বিনিয়োগকারীরাও স্বর্ণের বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, যা স্বর্ণের চাহিদা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও